কোচবিহার:২০১৯ এর The Great Blunder কাটিয়ে হেভিওয়েট নিশীথ প্রামাণিকের প্রতিপক্ষ হিসেবে তৃণমূলের রাজবংশী চেহারার দিক থেকে পার্থপ্রতিম রায় এগিয়ে, যদিও অনেকেই আছে দৌড়ে।
আজ ২০২২ এর বছর শেষ, যদিও বিজেপির ডিসেম্বর চমক এখনো অবধি দেখা গেলো না কিন্তু কোচবিহার জেলায় ইতিমধ্যে সমস্ত দল ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে জোর কদমে।। প্রসঙ্গত ২০২১ নির্বাচনে দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের বিপুল জয়ের পরেও উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপির আধিপত্য কায়েম হয়েছে এবং এর জন্য রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সেইটা বলাই বাহুল্য তথা এই রাজবংশী ভোট ব্যাংকের কেন্দ্রবিন্দু উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক রাজধানী রাজনগর কোচবিহারের রাজনৈতিক আবহাওয়া যে প্রত্যেকটি তরাইয়ের রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য লিটমাস টেস্টের কাজ করে এটা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বারবার উঠে এসেছে।।
উল্লেখ্য ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের পরে কোচবিহারের রাজনীতি 180° ঘুরে গিয়েছে এবং গত পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন পৌরসভায় তৃণমূলের আধিপত্য কায়েম হয়েছে।। এরই মধ্যে দেখা গেছে বারবার কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বদল বিভিন্ন ধরনের তৃণমূলের অন্তর কোন্দল , এবং সমস্ত ঝড়ঝাপটা কাটিয়ে বর্তমানে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তরকলহ অনেকটাই কমে গেলেও গ্রামীন ভোটের সম্পর্কে এখনো সন্ধিহান হয়ে রয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব কারণ প্রকাশ্যে স্বীকার করতে না চাইলেও তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা কর্মী একান্ত আলাপ আলোচনায় বরাবরই এই কথা বলে থাকেন যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও কোচবিহারের সাংসদ নিশিথ প্রামাণিকের প্রভাব রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে বিস্তর। প্রসঙ্গত কোচবিহারে ও উত্তরবঙ্গে রাজবংশী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ছোট বড় সংগঠনের গুরুত্ব লক্ষণীয়ভাবে কমে যাচ্ছে বিজেপির নেতাদের উত্তরবঙ্গ কেন্দ্রিক রাজনীতির জন্য এবং এর সুফল বিজেপি ভালো করেই ক্যাশ করতে পেরেছে বিগত নির্বাচনে এর জেরেই নিশিথ প্রামাণিকের রাজনৈতিক উচ্চতা এখন উত্তরবঙ্গের তৃণমূলের নেতাদের জন্য ঠাহর করা কঠিন হয়ে চলেছে যদিও রাজনৈতিক মহলের ধারণা এই সব কিছু নেপথ্যে রয়েছে ২০১৯ এর The Great Blunder অর্থাৎ তৃণমূলের প্রার্থী বাচাইয়ের সময় যখন পার্থপ্রতিম রায় কে সরিয়ে পরেশ অধিকারী কে তৃণমূল প্রার্থী করা হলো, এই রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা তৃণমূলকে কোচবিহার জেলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে ব্যাকফুটে এনে দিয়েছিলো। উল্লেখ্য, রাজবংশী ভোট ব্যাংকের এই দড়ি টানাটানিতে একদিকে যেমন নিজের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে মরিয়া বিভিন্ন ছোট বড় সংগঠন অন্যদিকে নিশীথ প্রামাণিকের প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে তৃণমূলের অন্তর থেকেই প্রাক্তন সাংসদ তথা nbstc চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় ইতিমধ্যে উঠে এসেছেন। ওয়াকিবহল মহলের ধারণা একদিকে কোচবিহার জেলা জুড়ে পার্থ প্রতিম রায়ের রয়েছে প্রভাব, এবং দীর্ঘদিন থেকে নিশীথ বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে কোচবিহারের মানুষ নিশীথের প্রতিপক্ষ হিসেবে পার্থপ্রতিম রায়কেই সব থেকে প্রবল দাবিদার এবং গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে।। যদিও তৃণমূল নেতা গিরীন্দ্রনাথ বর্মন ও প্রাক্তন মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মনো এই দৌড়ে রয়েছেন।। কিন্তু ২০১৯ এর The Great Blunder এর ইতিহাসের কারণে হেভিওয়েট নিশিথ প্রামানিকের প্রতিপক্ষ হিসেবে পার্থপ্রতিম রায়ের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা সবথেকে প্রবল করে তোলে।। যদিও আগামী লোকসভা নির্বাচনের তৃণমূলের প্রার্থী বাছাই এর সময়েই দেখা যাবে আসলে কোন সমীকরণ এবং কোন রাজনৈতিক পন্থা হেভিওয়েট নিশিত প্রামানিককে রুখতে তৃণমূল অবলম্বন করে।









