কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় বিতর্ক তৃণমূলের অঞ্চল কমিটিগুলো নিয়ে

কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত আমবাড়ি, খাগড়াবাড়ি ,গোপালপুর ও চকচকা তে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অঞ্চল কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরে, ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পাল্টা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, তারপরেই আজ কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতির নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিরাট বিবৃতি জারি করা হয়েছে।।

“কোচবিহার জেলার নটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ, দিনহাটা, সিতাই, শীতলকুচি, মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের দল জয়ী হয়।। নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র 1200- ভোট এবং তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র 6500 – ভোটে আমরা পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচন পরবর্তীতে বিজেপির ব্যাপক ভাঙ্গন এবং তৃণমূলে বিজেপি পঞ্চায়েতের যোগদান কে সামনে রেখে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই দুটো ক্ষেত্রে আমাদের জয় নিশ্চিত।আরো তাৎপর্যপূর্ণ হলো গত বিধান সভার তুলনায় এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রায় ৪৯,০০০ হাজার ভোট কমেছে ।বাকি দুটো বিধানসভা কোচবিহার উত্তর, মাথাভাঙা সেই সাথে সবগুলো শহরের সাথে সাথে বিশেষ করে কোচবিহার পুরসভা এলাকায় গত লোকসভা ভোটে জেলার সমস্ত এলাকার তুলনায় দলের ফল খারাপ হয়েছে। আগামী বিধানসভায় আমাদের লক্ষ্য কোচবিহারে নয়ে নয়। সব বিধানসভায় জিততে ওই সব এলাকায় বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে নতুন মুখ সংযোজন, কমিটি পরিবর্ধন, প্রয়োজনে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
2026-সালের বিধানসভায় সব আসনে জয়ের লক্ষই এখন পাখির চোখ। ইতিমধ্যে কোচবিহার উত্তর বিধানসভার চারটি ,মাথাভাঙায় ১ টি ,দিনহাটায় ৪ টি জেলা জুড়ে মোট ১০ টি অঞ্চল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও নূতন কমিটি করা হয়েছে।সাংগঠনিক কাজে গতি আনতে আরও কয়েকটি অঞ্চল কমিটিতেও সাংগঠনিক রদবদল হবে। রাজ্য নেতৃত্বের অনুমতি ক্রমেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কোচবিহারে যে সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেসব দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের নজরে রেখেই হয়েছে।ভবিষ্যতেও তাই হবে।

এই প্রসঙ্গে বলতে হয়, কোচবিহার উত্তর বিধানসভাতে গত লোকসভা নির্বাচনে দল প্রায় 19- হাজার ভোটে হারে তার মধ্যে খাগরাবাড়ি 8- হাজার, চকচকায় 5- হাজার, গোপালপুরে 3200 -ভোটে পিছিয়ে ছিলাম আমরা। তবে এই তিনটি অঞ্চলে 16 -হাজারের উপরে আমরা হেরেছি। মাথাভাঙা বিধানসভায় আমরা 10,500 ভোটে হেরেছি, তারমধ্যে মাথাভাঙা শহরের 4200 ভোট, ফুলবাড়ী অঞ্চল 3200 ভোট , পারা ডুবি 1900 ভোট ব্যবধানে আমরা পিছিয়ে। অর্থাৎ এই তিনটি জায়গা থেকেই প্রায় দশ হাজার ভোটে আমরা পিছিয়ে যাই। এছাড়াও প্রেমেরডাঙ্গা ও নিশিগঞ্জ বাজার এলাকায় বুথ গুলোতেও আমাদের ফলাফল যথেষ্টই খারাপ হয়।

কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র প্রায় আট হাজার ভোটে জিতলেও কোচবিহার শহরে প্রায় 19- হাজার ভোটে আমরা লোকসভায় পিছিয়ে। সবকিছু নজরে রেখে, পর্যালোচনা করে আগামীতে ওই সব এলাকায় দলের শক্তি বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে। সবাইকে খুশি করে সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি করা যাবে না। যোগ্যতমের অগ্রাধিকার সূত্র ধরেই বুথ, অঞ্চল, ব্লক স্তরে এমনকি জেলাতেও যোগ্য নেতৃত্বদের সামনে আনার প্রক্রিয়া দলের সর্বস্তরে শুরু হয়েছে। জেলা জুড়ে ইতিমধ্যেই দশটি অঞ্চলে সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে, আগামীতে আরো প্রায় কুড়িটি অঞ্চলে সাংগঠনিক পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন করা হবে।

সর্বোপরি দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সকল অনুগত কর্মীরা দলের প্রতি একনিষ্ঠতা রেখে কাজ করবেন এটাই বাস্তব।। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে সেটা অবাস্তব।

অভিজিৎ দে ভৌমিক।সভাপতি,কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি।

প্রসঙ্গতা ,এখন এই বিষয় নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা শুরু হয়েছে, অভিজিৎ দে ভৌমিক বানাম সজল সরকার!”

তুফানগঞ্জ: প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ও FAM এডমিন শ্যাম অধিকারী দুর্ঘটনাগ্রস্থ হওয়ার পরেই চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করলেন স্বয়ং তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক ব্যানার্জি

কোচবিহার তুফানগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও ফ্যামের এডমিন তথা তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী শ্যাম অধিকারী আজ একটি বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।। দলের সক্রিয় কর্মীর দুর্ঘটনার খবর পেয়েই বিচলিত হয়ে পড়েন তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে সঙ্গে কোচবিহার জেলার গোটা তৃণমূল কংগ্রেস পরিবার তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের নির্দেশে সক্রিয় হয়ে পড়ে, এবং তৎপরতার সঙ্গে যোগার করা হয় এই সমস্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার এবং পর্যাপ্ত পরিমাণের রক্তের।। কিন্তু ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় ক্রমেই শ্যাম অধিকারী পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে তারপরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে শিলিগুড়িতে একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার ব্যবস্থা শুরু হয় কিন্তু এরই মাঝে জানা যায় যে ওই তৃণমূল কর্মীর পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি এমনটা নয় যে কোচবিহারের বেসরকারি হাসপাতালে বিল তারা দিতে পারে কারণ সেখানে হয়ে গেছিলো প্রায় লক্ষাধিক টাকার বিল।। এই মতন অবস্থায় মাসিহা হয়ে দাঁড়ান স্বয়ং তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।। প্রত্যন্ত এলাকার এক তৃণমূল কর্মীর পরিস্থিতির কথা জেনে তিনি সমস্ত বিলের ব্যবস্থা করে দেন এবং ইতিমধ্যে ওই তৃণমূল কর্মীকে অত্যাধুনিক এম্বুলেন্সে করে শিলিগুড়িতে বেসরকারি এক হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি নিজের দাঁড়িয়ে থেকে সমস্ত আয়োজন করেন।।

কোচবিহারে উলট পুরান, সর্বস্তরের মানব সেবার রাজনীতি একমাত্র চাবিকাঠি ভারতবর্ষের ১ ন: লোকসভা কেন্দ্রে।।

কোচবিহারে উলট পুরান, সর্বস্তরের মানব সেবার রাজনীতি চাবিকাঠি ভারতবর্ষের ১ ন: লোকসভা কেন্দ্রে।।

২২ শে জানুয়ারি বহু প্রতীক্ষিত শ্রী রাম মন্দিরের উদ্বোধন হতে চলেছে অযোধ্যায়, এটা বলাই বাহুল্য তার একটি ব্যাপক প্রভাব রয়েছে ভারত বর্ষ জুড়ে এবং কোচবিহারও কোন অপবাদ নয়।। কিন্তু কোচবিহার জেলায় রয়েছে ৭৪ % সংখ্যাগুরু মানুষের পাশাপাশি, ২৬ % সংখ্যালঘু মানুষ।। এই মতন অবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের কাছে এই দুই সম্প্রদায়ের গুরুত্ব রয়েছে মারাত্মক সেই জন্যই একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদেরকে দেখা যাচ্ছে নানান ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এবং প্রতিনিয়ত নানান কীর্তন অনুষ্ঠান পূজা পার্বণে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব কে সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থল পরিদর্শন ও উন্নয়নে সোচ্চার হতে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে।। বিভিন্ন বর্গের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্য করার চিত্র মাঝেমধ্যেই উঠে আসছে কোচবিহারে।

অন্যদিকে কোচবিহার ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বদেরকে বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশিথ প্রামানিক কে নিজের জন্মদিনে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেলো পেটলা রাজাখোড়া এলাকার অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের এক শিশু সন্তান দীর্ঘদিন থেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। সেই কারণে উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য রোগে আক্রান্ত নাবালকের বাবার হাতে দুই লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন নিশীথ প্রামানিক। পাশপাশি ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গা এলাকার প্রবীণ নাগরিকের চিকিৎসার জন্য লক্ষাধিক টাকার চেক প্রদান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর। ডাঙ্গা এলাকার প্রবীণ নাগরিক কাশের আলী মিয়া দীর্ঘদিন থেকেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। সে কারণেই তার উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ১ লক্ষ ১৯ হাজার টাকার অনুদান চেক তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক।।

প্রসঙ্গত, এই গোটা ঘটনাক্রমে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে আগামী লোকসভা নির্বাচনে মানুষের রাজনীতি সর্বপরি থাকবে। এবং গণতন্ত্রের মূল আদর্শ মানব সেবা কে পাথেয় করেই নির্বাচনে নামতে চলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল

কোচবিহার: তৃণমূল জেলা সভাপতির নেতৃত্বে ফের ঐক্যবদ্ধ জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এক ফ্রেমে! ২০১৯ এর তুলনায় ২০২৪ এ অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল কোচবিহার জেলায়!

কোচবিহারের হেভিওয়েট লোকসভা আসনে ২০২৪ এর লড়াইয়ের আগে ক্রমেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস, কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের নেতৃত্বে যেনো ২০১৯ এর হারানো জমি ফিরে পাওয়ার এক মরিয়া চেষ্টায় নেমে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।। প্রসঙ্গত, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজনগর কোচবিহার আসন, ৫০ হাজারের অধিক ভোটে জিতে বিজেপি দখল করে এবং সেই নির্বাচনের জয়ের পরেই কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক কে একপ্রকার পুরস্কৃত করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায় সহ নানান জনগোষ্ঠীর পিঠস্থান কোচবিহার আসন মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানেই একসময় ছিলো কোচবিহার মহারাজাদের রাজধানী এবং দীর্ঘকাল থেকে উত্তরবঙ্গে, কোচবিহার থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়ে এসেছে এবং এই শহরের সঙ্গে রয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষের আবেগের টান।। উল্লেখ্য ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের জন্য বিভিন্ন কারণ এর মধ্যে অন্যতম কারণ ছিলো তৃণমূল কংগ্রেস জেলা নেতৃত্বদের মধ্যে অনৈক্য, এবং এই অনৈক্যের জেরে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসকে, এর খেসারত দিতে হয়েছিলো, কোচবিহার জেলার ৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ২ টি তে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস যদিও পড়ে দিনহাটা বিধানসভা উপনির্বাচনে উদ্ধার করে তৃণমূল কংগ্রেস।। কিন্তু পরপর এই দুই নির্বাচনের ফলাফলে এটা একদম স্পষ্ট ছিলো যে গেরুয়া শিবির কোচবিহারে মারাত্মক শক্তি অর্জন করে ফেলেছে, এমনকি পরিস্থিতি এমন হয়ে গিয়েছিলো যে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা প্রেসিডেন্ট বদল হতে থাকে বারবার,, কিন্তু ২০২২ পৌরসভা নির্বাচনের পর থেকে কোচবিহার জেলায় ফের ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস, এবং পৌরসভা নির্বাচনে সবথেকে কঠিন আসন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মারাত্মক লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের জয়, এক প্রকারে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য ভবিষ্যৎ বার্তা নিয়ে আসে,, এর কারণ গত পৌরসভা নির্বাচনে ১৬ নাম্বার ওয়ার্ডের লড়াইটা ছিল সবথেকে কঠিন সেইসময়ের তৃণমূল প্রার্থীর জন্য । তারপরে পৌর বোর্ড গঠন হওয়ার কিছুদিন পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক তৃণমূল কংগ্রেস জেলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, সেই সময়ও অনেক জল্পনা শোনা গিয়েছিলো রাজনৈতিক মহলে, কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ছিলো মারাত্মক অনৈক্য কিন্তু ধীরে ধীরে তোরসা নদীর জল প্রবাহিত হতে থাকে এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোচবিহার জেলায় মারাত্মক লড়াই করে তৃণমূল কংগ্রেস ৩৪ এর মধ্যে ৩২ টি জেলা পরিষদ আসন দখল করে, অভিজিৎ দে ভৌমিক প্রমাণ করেন নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা এর পরেই যেনো মোড় ঘুরতে শুরু করে কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের, বহুদিন পরে এক ফ্রেমে দেখা যেতে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত নেতৃত্বকে, এরই মাঝে কোচবিহার জেলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বহুদিনের আকাঙ্ক্ষা যে জেলা শহরে একটি স্থায়ী পার্টি অফিসের স্বপ্ন তাদের পূরণ হয়েছে ।। আজ আবার তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত নেতৃত্বদেরকে এক ফ্রেমে দেখা গেলো, বহুদিনের তৃণমূল নেতৃত্ব সহ নবীন সমস্ত নেতা, বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন জন প্রতিনিধিরা সবাই মিলে আগামী দিনের নির্বাচনের রমনীতি তৈরি করছেন,, এখন এটাই দেখার যে এই ঐক্য কতটা স্থায়ী হয়, কিন্তু এই কথা অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই যে বর্তমানে কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটাই সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ দেখা যাচ্ছে সাংগঠনিক রূপে।

কোচবিহারের চিকিৎসা ক্ষেত্রের নক্ষত্র আরো উজ্জ্বল হলো, স্বনামধন্য মিশন হাসপাতাল দশম বর্ষে পদার্পণ করলো।।

সাফল্যের সাথে দশম বর্ষে পদার্পণ করল কোচবিহার মিশন হসপিটাল । গত ৯ বৎসর থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে এবং সেবা ভাবনাকে পাথেয় করে চিকিৎসা জগতে উত্তরবঙ্গ তথা নিম্ন অসম জুড়ে অত্যন্ত সুখ্যাতি অর্জন করেছে এই হাসপাতাল।। দূর দূরান্ত থেকে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবার জন্য এই হাসপাতালে ছুটে আসে বিভিন্ন স্তরের মানুষ, কারণ যেখানে সেবাই পরম ধর্ম, সেখানে সমস্ত স্তরের মানুষের জন্য রয়েছে অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবুদের পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা পরিষেবার ব্যবস্থা তাই ক্রমশ চিকিৎসা ক্ষেত্রে মানুষের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছে মিশন হাসপাতাল কোচবিহার।। কঠোর পরিশ্রম তথা সেবা ভাবনার  মধ্য দিয়ে মিশন হাসপাতালের সমস্ত কর্মচারীরা এবং ডাক্তার বাবুরা প্রতিনিয়ত দিয়ে চলেছেন এই পরিষেবা তাদের সবাইকে নিয়ে মিশন হাসপাতালের  কর্তৃপক্ষ উদযাপন করলেন নবম প্রতিষ্ঠা দিবস।। তাদের ক্রমবৃদ্ধিমান এই উন্নতি ও উত্তরণে সাধুবাদ জানাচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে উপকৃত বহু মানুষ তথা কোচবিহারবাসি।

কোচবিহারে ২০২৪ নির্বাচনে তৃণমূল- বিজেপি দুই দলেই রয়েছে অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা!! Part-3

কোচবিহার : ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হতে চলেছে বিভিন্ন সমীকরণ তথা রণনীতির লড়াই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা কোচবিহারে আগামী লোকসভা নির্বাচন হতে চলেছে অন্তর্ঘাত বনাম অন্তর্ঘাতের
লড়াই! প্রসঙ্গত, ২০১৯- শের কোচবিহারে লোকসভা আসনে যেখানে জয়লাভ হয়েছিল বিজেপির এবারে কিন্তু খাতায়-কলমে অংকের হিসেবে অনেকটাই নিজের ঘর গুছিয়ে নিয়েছে তৃণমূল ।

যদিও ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে যেখানে আভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল ও বেইমানির নজির দেখতে হয়েছিলো শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে এমনটা মনে করে রাজনৈতিক মহল।। ঠিক একই রকম ভাবে ২০২৪ এর নির্বাচনেও কিন্তু তেমনি কিছু ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল।।

উল্লেখ্য, শুধু তৃণমূল কংগ্রেসই নয় জেলা বিজেপির মধ্যেও রয়েছে চরম গোষ্টি কোন্দল, বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্টে তথা কখনো প্রকাশ্যে কখনো গোপনে বহু বিজেপি নেতাকর্মীরা যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে ক্ষুব্ধ সেটা প্রকাশ্যে এসেছে।। এবং বিজেপির মধ্যেও অন্তর্ঘাত হওয়ার সম্ভাবনা মারাত্মক প্রবল এইটা ধারণা ওয়াকিবহল মহলের।

প্রসঙ্গত কোচবিহার লোকসভা অন্তর্গত তিনটে শহর এলাকায় তৃণমূলের বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে বিজেপির ভালো ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধী মনোভাব যে শহরাঞ্চলগুলোতে রয়েছে সেইটা বোঝার জন্য বিশেষ কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলগুলোতে তৃণমূলের লাগাতার জনমুখী আন্দোলন যেমন ১০০ দিনের কাজের টাকা আদায়ের আন্দোলন, গরিবদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার আন্দোলন তথা লক্ষীর ভান্ডারের মতো প্রকল্প গুলোর যে একটি বিরাট প্রভাব রয়েছে সেইটা অস্বীকার করার ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নেই।।

যদিও বিশ্লেষক মহল মনে করছে, লোকসভা নির্বাচনের মতন একটি বড় নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতি এবং রাজ্য রাজনীতির প্রভাব খুব মারাত্মক ভাবে থাকবে কিন্তু কোচবিহারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সমীকরণের গুরুত্ব সবথেকে বেশি থাকবে সেই জন্যই বিভিন্ন ধরনের অন্তরঘাতের প্রসঙ্গ উঠে আসছে কোচবিহারের রাজনীতির রুপরেখাতে।।

ইতিমধ্যে, রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের কিছু বর্ষিয়ান নেতৃত্ব গোপনে যোগাযোগ রাখছে বিজেপির টিকিটে নবনির্বাচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে, উদ্দেশ্য যাই হোক কেন্দ্রিয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর ভয়, নবীন নেতৃত্বের প্রতি ঈর্ষা, অথবা আর্থিক কোনো লাভ, কিন্তু এই গোপন আঁতাতের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে শহরাঞ্চলগুলোতে, এবং এর জেরেই তৃণমূল নেতৃত্ব অন্তর্ঘাতের সিঁদুরে মেঘ দেখছে।। অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর পাওয়া যাচ্ছে, বিজেপির বেশ কিছু প্রথম সারির জনপ্রতিনিধি ও সক্রিয় নেতাকর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে জেলায় শীতনিদ্রায় চলে গেছে , তারা তৃণমূল থেকে নবাগত বিজেপি নেতাদের প্রভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং তাই তারা আর তৎপরতার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি গুলোতে আর অংশগ্রহণ করছেন না, সেই জন্য অন্তরঘাতের কালো ছায়া বিজেপির অন্দরেও প্রবল ভাবে রয়েছে।।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ছিলো প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী হওয়া উত্তরবঙ্গ জুড়ে, এবং ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনের নানান কুকর্মের খেসারত দিতে হয়েছে শাসকদলকে উত্তরবঙ্গে।। কিন্তু ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধেও রয়েছে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হওয়া।। অন্যদিকে ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন কোচবিহার জেলায় ২০১৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনের থেকে অনেকটাই ভিন্ন ছিলো, তার মধ্যেও ভালো ফলাফল হয়েছে তৃণমূলের এবং তারপরে ধুপগুড়ি উপনির্বাচনের ফলাফল পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যে রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে ,এবার কোনো দলই নিশ্চিন্তে নেই।। কারণ ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের যে রাজনীতি , এতদিন বরাবর শিরোনামে থাকতো , সেইটা শিরোনাম থেকে সরে গিয়ে রাজনীতির তালিকায় অনেক নিচে চলে গেছে।।

যদিও ২০২৪ নির্বাচনের এখনো অনেক সময় রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে পাল্টাবে নানান সমীকরণ ও তৈরি হবে নানান রননীতি কিন্তু শেষ কথা বলবে জনগণ। (বিশেষ প্রতিবেদন)

সিকিমের হরপা বানে মৃত্যু দিনহাটার এক যুবকের

সিকিমের হরপা বানে মৃত্যু দিনহাটার এক যুবকের, ঘটনায় শোকের ছায়া। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে দিনহাটা মহকুমার ভেটাগুড়ি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের রুয়েরকুঠি এলাকার বাসিন্দা রাহুল মোদক(২৭) সিকিমে একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার সিকিমে হঠাৎ করে হরপা বানের কবলে পড়ে সে। গতকাল শিলিগুড়িতে তার মরদেহ উদ্ধার হয় বলে জানা গিয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য এই খবর জানান।

(Part 2)মাথাভাঙ্গা ২ ব্লকে বিজেপি দখল করেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কত বড় চ্যালেঞ্জ মাথাভাঙ্গা ২ ন: ব্লক, আগামী ২০২৪ লোকসভার ক্ষেত্রে!! Part -2

কোচবিহারে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবথেকে জমজমাট লড়াই তাই হয়তো পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেও লাগাতার কর্মসূচি এবং জনসংযোগে নেমে পড়েছে  দুই দল তৃণমূল ও বিজেপি ।। একদিকে রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক অন্যদিকে  কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে  ভৌমিকের নেতৃত্বে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রূপান্তরণ ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেসের।। উল্লেখ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনে ও
ধুপগুড়ি উপনির্বাচনের ফলাফলের পরে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে রাজনৈতিক উত্তাপ।। প্রসঙ্গত, মাথাভাঙ্গা ২ ন: ব্লক,  পরিসংখ্যান তালিকায় বারবার উঠে ভেসে আসছে, এর কারণ এই ব্লকে বিজেপি দখল করেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদ আসন।। কিন্তু নির্বাচনী বিশ্লেষণ কখনোই সহজ অংকের দ্বারা হয় না।।

এবার যদি পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে লক্ষ্য করা যায় তাহলে পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসছে

১) বড় শৌলমারী – এই গ্রাম পঞ্চায়েতে আসন রয়েছে ২৩ টি যার মধ্যে ১৪ টি দখল করেছে বিজেপি ও ৯ দখল করেছে তৃণমূল ।।

উল্লেখ্য: ১২ টি আসনে ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ব্যবধান  ৩ টি আসনের এবং পরিসংখ্যান দেখে বোঝা যাচ্ছে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ টি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিলো ১ ভোট, ১১ ভোট , ৯ ভোট যথাক্রমে অর্থাৎ গোটা গ্রাম পঞ্চায়েত মাত্র 21 ভোটে  জয় করেছে বিজেপি এবং ১১ টি ভোট যদি বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেত তাহলে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ফলাফল অন্যরকম হতো।।

২) রুুইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত-এখানে মোট আসন রয়েছে ২৩ টি, ১৩ টি বিজেপি পেয়েছে এবং ১০টি আসন তৃণমূল কংগ্রেস।।

উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো ১২টি আসনে, পরিসংখ্যান বলছে ২ টি আসনের ব্যবধানে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিলো ৪টি ভোট ও ৮টি ভোট, অর্থাৎ ১২ ভোটে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি এবং যদি ৭টি ভোট বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেত তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতো।।

৩)পাড়াডুবি গ্রাম পঞ্চায়েত : এই গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন  ২২। তৃণমূল দখল করেছে ১০টি এবং বিজেপি দখল করেছে ১৩ টি.

উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো ১২ আসনে।। পরিসংখ্যান বলছে দুইটি আসনের ব্যবধানে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি।। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৮ ভোট ও ১২ ভোট।। অর্থাৎ ২০ ভোটের ব্যবধানে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি এবং যদি ১১ টি ভোট বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেত তাহলে বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেতো গ্রাম পঞ্চায়েতের চিত্র অন্যরকম হতো।

৪) লতাপাতা গ্রাম পঞ্চায়েত: এখানে মোট আসন ছিলো ২৩ টি,, যার মধ্যে বিজেপি দখল করেছে ১৩ টি এবং তৃণমূল দখল করেছে ১০টি।

উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো ১২ আসনের এবং এখানে ২টি আসনের ব্যবধান ছিলো তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের এবং এখানে দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিলো ২০ ভোট ও ৩৩ ভোট অর্থাৎ মোট ৫৩ ভোট  এবং যদি ২৭ ভোট একদলের পরিবর্তে অন্য দলে পড়তো তাহলে চিত্র অন্যরকম হতো।।

৫) ঘোকসারডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৮ এখানে তৃণমূল পেয়েছে ৮টি আসন এবং বিজেপি পেয়েছে ১০টি আসন.

উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ১০টি আসনে, এবং এখানে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিল দুটি আসন ।। এখানেও দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান রয়েছে ৪ ভোট এবং ৪৩ ভোট ।। মোট ব্যবধান 47 ভোটের।। অর্থাৎ যদি ২৪ টি ভোট একদলের পরিবর্তন অন্য দল পেত তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতো।।

***পরিসংখ্যান:
১)বড়শোলমারি: ১১ ভোট ((swing)
২) রুুইডাঙ্গা: ৭ভোট( Swing )
৩) পারাডুবি: ১১ ভোট ((swing
৪) লতাপাতা:২৭ভোট ((swing))
৫) ঘোকসাডাঙ্গা:২৪ভোট ((swing))

মোট: ৮০ টি  ভোট নির্ধারণ করেছে এই পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের এইবারের ফলাফল।।

অর্থাৎ এইটা বলাই বাহুল্য যে মাথাভাঙ্গা দুই নাম্বার ব্লকে বিজেপির ভালো ফলাফল হলেও খুব স্বল্প ব্যবধান  রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে, এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতি আরো চরমে উঠবে, তথা ধুপগুড়ি উপনির্বাচনের ফলাফল এক অন্যরকমের সমীকরণের দিকে আভাস দিচ্ছে।। যদিও চূড়ান্ত নির্ণয় নেবে জনগণ কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে মাথাভাঙ্গা ২ নাম্বার ব্লকে রয়েছে খুবই সাময়িক ব্যবধান।।

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে ২০২৪ এ হতে পারে আগামী নির্বাচনের সবথেকে জমজমাট লড়াই।। Part -1

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে হতে পারে আগামী লোকসভা নির্বাচনের সব থেকে জমজমাট নির্বাচনী লড়াই।। VIP লোকসভা কেন্দ্র উত্তরবঙ্গের রাজনীতির নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা আসন।। কোচবিহার কে ঘিরে একদিকে যেমন রয়েছে নানান ঐতিহাসিক ঐতিহ্য,, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নিজস্ব নির্বাচনী ক্ষেত্র এই আসন বরাবর শিরোনামে, সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বাচনী ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র দিনহাটা বিধানসভায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং দীর্ঘদিনের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক।।

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে ৭ টি বিধানসভা : ১) কোচবিহার দক্ষিণ ২) কোচবিহার উত্তর ৩) নাটাবাড়ি ৪) দিনহাটা ৫) শীতলখুচি ৬) সিতাই ৭) মাথাভাঙ্গা।।

২০১৯ লোকসভা ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৭৩১৫৯৪ (৪৭.৯৮%) দ্বিতীয় স্থানে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৬৭৭৩৬৩ (৪৪.৪৩%) তৃতীয় স্থানে ছিলেন বাম প্রার্থী তার প্রাপ্য ভোট ছিলো ৪৬৬৪৮ (৩.০৭%) কংগ্রেস প্রার্থীর প্রাপ্য ভোট ছিল ২৮২১৫ (১.৮৫%)

অর্থাৎ বিজেপি প্রার্থী তথা তৃণমূল প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য ছিল মাত্র ৩.৫৫% ভোটের।।

কিন্তু ২০১৯  থেকে ২০২৪ মধ্যে তোরসা নদী দিয়ে গড়িয়েছে অনেক জল এবং নির্বাচনী পরিসংখ্যান সরল অংকের জোরে হয়না, কারন এর পেছনে থাকে নানান ফ্যাক্টর,, একদিকে যেমন রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একটি বিশাল ফ্যান following অন্যদিকে রয়েছে নিরামিষ আহার করা, কোনোরকম নেশা থেকে বিরত থাকা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক।।

 বিজেপির পক্ষে কি কি ফ্যাক্টর রয়েছে:

১) ২০১৯ এ বিজেপির একটি ও বিধানসভা দখলে ছিলোনা বর্তমানে কোচবিহার লোকসভা অন্তর্গত ৫ বিধানসভা দখলে রয়েছে বিজেপির।

২) কোচবিহার থেকে বিজেপি রয়েছে হেবি ওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।।

৩) কোচবিহার বিমানবন্দর চালু হয়েছে।।

৪) প্রধানমন্ত্রী মোদী ফ্যাক্টর।।

৫) তৃণমূল নেতাদের অনৈক্য।।

৬) দুর্নীতি নিয়ে রয়েছে হাওয়া।।

৭) জেলার বিভিন্ন শহর অঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রভাব।।

৮) ক্রমাগত বিভিন্ন আন্দোলন সংগঠিত করা।।

৯) ২০১৯ তুলনায় গ্রামীণ স্তরে বিজেপির সংগঠন থাকা।।

১০) যুব সমাজের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে হতাশা।।

 তৃণমূলের পক্ষে কি কি ফেক্টর রয়েছে:

১) কোচবিহার জেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট তথা পরিকাঠামগত উন্নয়ন।।

২) পঞ্চানন বিশ্ববিদ্যালয় ,ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিকেল কলেজের মতন প্রতিষ্ঠান তৈরি।।

৩)২০১৯ এর থেকে ২০২৩ এ অনেকটাই সংগঠিত তৃণমূল কংগ্রেস, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের স্পষ্ট।।

৪) মহিলা ভোটারদের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার মাধ্যমে সংগঠিত করা।।

৫) বিরোধীদের অন্তরকলহ বারবার প্রকাশ্যে চলে আসা, এবং তৃণমূল জেলা সভাপতির নানান কার্যক্রমের প্রভাবিত বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ।

৬) উত্তরবঙ্গে পরপর বিভিন্ন নির্বাচনে  রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোটের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট।। বিশেষত ধুপগুড়ি উপনির্বাচনে বিজেপির তাবর তাবড় নেতারা প্রচার করেও তৃণমূলের ভালো ফলাফল।।

৭) বিরোধীদের বডিগার্ড ও বড় বড় গাড়ি প্রদর্শনের রাজনীতির  নেতিবাচক প্রভাব ও তৃণমূল জেলা সভাপতি সরল জীবন যাপন।।

৮) বিধায়ক তহবিল তথা সংসদ তহবিলের খরচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা।।

৯) বিরোধীদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি: যেমন নারায়নী সেনা, কেন্দ্রীয় সরকারের মদতে শিল্পায়ন, বহুমুখী হিমঘর, upsc ক্যান্ডিডেটদের জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা রূপায়নে ব্যর্থতা।।

১০) তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা মানুষের জন্য সহজে উপলব্ধ।।

**যদিও রাজনীতিতে কোন কিছুই স্থায়ী নয় এবং দ্রুত পাল্টাতে থাকে পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট অন্যদিকে নির্বাচন যত বেশি এগিয়ে আসবে তত বেশি বদলাতে থাকবে চিত্র এবং সর্বশেষ কথা বলবে জনগণ।। কিন্তু অবশেষে জয় হবে গণতন্ত্রের।।

(খুব শীঘ্রই নানান বিধানসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তথ্যভিত্তিক চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে হাজির হচ্ছে The Rainbow)

নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গুজরাটের থেকে দারিদ্রতার হার পশ্চিমবঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে কমছে!!

নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গুজরাটের থেকে দারিদ্রতার হার পশ্চিমবঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে কমছে!!

যেখানে ‘গুজরাট মডেল’কে “অর্থনৈতিক সাফল্যের চাবিকাঠি  হিসাবে ব্যাপকভাবে সমাদৃত করা হয়, বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গকে পিছিয়ে বলে মনে করা হয়। সেইখানে, এই সপ্তাহে সরকারি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক NITI Aayog দ্বারা প্রকাশিত একটি রিপোর্ট দেখা যাচ্ছে যে দুটি রাজ্যের  মেট্রিক – বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের উপর পরিসংখ্যান সম্পূর্ণ আলাদা কথা বলছে।।

‘জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক: পর্যালোচনার অগ্রগতি 2023’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিটে দেখা যাচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে, জনসংখ্যার 11.89 শতাংশ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের অধীনে বাস করে এবং গুজরাটের জন্য 11.66 শতাংশ।।যদিও পরিসংখ্যান মন্ত্রকের 2021-22 অনুমান অনুসারে, গুজরাটের মাথাপিছু আয় – বা নির্দিষ্ট বছরে একজন ব্যক্তির গড় আয় – 2.5 লাখ RS এবং পশ্চিমবঙ্গের 1.24 লাখ Rs।। অতএব গুজরাটের মাথাপিছু আয় পশ্চিমবঙ্গের থেকে  দ্বিগুণ হওয়া সত্ত্বেও দারিদ্রতার বিষয়ে গুজরাটের পরিসংখ্যান পশ্চিমবঙ্গের সমান।।

পরিসংখ্যান স্পষ্ট রূপেই ব্যক্ত করছে, এই আয়ের ব্যবধান সত্ত্বেও, পশ্চিমবঙ্গ বিগত পাঁচ বছরে গুজরাটের তুলনায় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য কমাতে অনেক ভাল কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, নীতি আয়োগের এই প্রতিবেদনটি আয়ের মান পরিমাপ দ্বারা নয় বরংচ স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানগুলির উপর বঞ্চনার পরিপ্রেক্ষিতে দারিদ্র্য পরিমাপ করে, যা আরও মোট 12টি উপ-সূচকে বিভক্ত।

প্রসঙ্গত, 2016 সালে, গুজরাটের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলো এবং পরিসংখ্যান বলছে, গুজরাটে প্রায় 18.5 শতাংশ মানুষ এবং পশ্চিমবঙ্গের 21.3 শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করত,  কিন্তু 2021 সালের মধ্যে, গুজরাটে এই জনসংখ্যা 6.8 শতাংশ পয়েন্ট কমে প্রায় 11.7 শতাংশে নেমে এসেছে, যখন পশ্চিমবঙ্গে, এটি 9.4 শতাংশ পয়েন্ট কমে 11.9 শতাংশে পৌঁছেছে। অতএব পরিসংখ্যানের বিচারে গুজরাটের থেকে পশ্চিমবঙ্গে দারিদ্র দূরীকরণের উপরে বেশি কাজ হয়েছে।।

উল্লেখ্য, এই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রতি 11 জনের মধ্যে একজনের দারিদ্রতা দূর হয়েছে অন্যদিকে গুজরাটে প্রতি ১৫ জনের মধ্যে একজনের দারিদ্রতা দূর হয়েছে।।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা গুজরাটের চেয়ে বেশি হলেও যেহেতু প্রত্যেকটি পরিসংখ্যান শতাংশের হিসাবে বের করা হয়েছে সেই জন্য বেশি জনসংখ্যা অথবা কম জনসংখ্যার বিশ্লেষণের কোনো অবকাশ থাকে না যদিও ।। নিখুঁত সংখ্যার বিচারে 2016 থেকে 2021 পর্যন্ত, পশ্চিমবঙ্গ 92.58 লক্ষ মানুষকে দারিদ্রতার থেকে বের করে এনেছে, সেখানে একই সময়ে গুজরাটে 47.84 লক্ষ মানুষকে দারিদ্রতা থেকে বের করে এনেছে।।