কোচবিহার:অনন্ত মহারাজের বিজেপির তরফ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হওয়ার খবর চাউর হতেই, সামাজিক মাধ্যমে বিজেপি নেতাদের বিভিন্ন পোস্ট বিদ্রোহের ঝড়ের আভাস দিচ্ছে!!
একদিকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে কোচবিহার বিজেপির ভরাডুবি, যদিও বিজেপির তরফ থেকে দাবী করা হচ্ছে আগের থেকে অনেক ভালো ফলাফল হয়েছে এবং নির্বাচনী সন্ত্রাসের জেরেই এই ভরাডুবি।। তবুও জেলায় বিজেপির ছয়টি বিধায়ক ও সাংসদ থাকা সত্ত্বেও জেলা পরিষদে মাত্র দুইটি আসন বিজেপি দখল করায় রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা চলছে জেলা জুড়ে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে।।
প্রসঙ্গত নানান সময়ে কোচবিহার বিজেপির অন্দরের দড়ি টানাটানি প্রকাশ্যে এসেছে, কিন্তু বিগত বিভিন্ন নির্বাচনে জেলায় বিজেপির ভালো ফলাফল সেইসব দুর্বলতাকে আড়াল করে চলেছিলো, তবে ২০২৩ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন তথা ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল বিজেপির এইসব দুর্বলতাকে অনেকাংশেই উন্মোচন করে দিয়েছে।
এরই মাঝে জি সি পি এ নেতা অনন্ত মহারাজের রাজ্যসভায় প্রার্থী হওয়ার খবর চাউর হতেই সেই সব ক্ষোভের বাঁধ যেনো ভেঙে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ্যে ফুটে এলো।।
উল্লেখ্য,২০১৯ ও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজবংশী কার্ড ব্যবহার করে কোচবিহার জেলায় তথা উত্তরবঙ্গে বিজেপির ভালো ফলাফল হয়েছিলো,, এবং বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়েছে যে রাজবংশী ভোট ব্যাংকের সিংহভাগ বিজেপির দখলে রয়েছে বরাবর। এবং এই ভোট ব্যাঙ্ক বারবার ক্যাশ করার জন্য উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিজেপি নেতা পার্টি লাইন থেকে সরে গিয়ে উত্তরবঙ্গে পৃথক রাজ্য তথা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দাবি তুলেছিলেন।।
যদিও উত্তরবঙ্গে বিজেপির ভালো ফলাফলের পেছনে আরো কারণ ছিলো এর মধ্যে প্রধান কারণ ছিলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষ আবেগ তথা পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের বিরুদ্ধে antiincumbency. কিন্তু বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপির ভালো ফলাফল হওয়ার পরে নানান সময়ে বিভিন্ন বিধায়কের ও সাংসদদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে,, সঙ্গে সঙ্গে উত্তরবঙ্গ বিভাজন নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের অস্পষ্টতা রাজবংশী সমাজের আস্থায় বিভাজন ঘটিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।। এর সঙ্গে সঙ্গে নানান ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানীয় বিজেপির নেতৃত্বের, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিসক্রীয়তা ও এলাকায় হঠকারী সিদ্ধান্ত জনগণের প্রতি তাদের নিষ্ঠার বিষয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে।
এই মতন পরিস্থিতিতে অনন্ত মহারাজের রাজ্যসভায় বিজেপির তরফ থেকে প্রার্থী হওয়ার খবর চাউর হতেই একদিকে বিজেপির অন্দরের অরাজবংশী নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, অন্যদিকে রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যেও অনন্ত মহারাজের পৃথক সত্তা ও পূর্ববর্তী নানান দাবি সম্পর্কে তার নিষ্ঠার প্রতি সংশয়ের একটি জায়গা তৈরি করে দিচ্ছে।। প্রসঙ্গত, রাজনৈতিক মহলের ধারণা বিজেপির পুরনো অস্ত্র “রাজবংশী কার্ড” উত্তরবঙ্গে আগামী দিনে কতটা প্রভাব ফেলবে সেইটা তো সময়ের গর্ভে রয়েছে,, কিন্তু উত্তরবঙ্গ জুড়ে বিজেপির অরাজবংশী ভোট ব্যাংকের মধ্যে একটি বিপরীত প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে।।
যদিও সময় ও পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে সমস্ত সমীকরণ ।














