২৩ এ মে ২০২২ মহারানী গায়ত্রী দেবীর ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী কিন্তু কোচবিহারের রাজকুমারী তথা জয়পুরের রাজমাতা গায়ত্রী দেবীর বর্ণময় জীবনের রয়েছে নানান গল্প ও ইতিহাস।
মহারাজকুমারী আয়েষা (Maharajkumari Ayesha) ওরফে গায়েত্রী দেবী (Gayatri Devi) ভারতবর্ষ তথা বিশ্ববাসীর কাছে একটি পরিচিত নাম। বাস্তবের রাজকন্যা হয়ে তিনি রূপকথার রাজকন্যা হয়েছেন। এক কথায় তিনি অনন্যা, অবিস্মরনীয়া, অপরূপা অথচ আদরণীয়া এবং শ্রদ্ধেয়া। অসামন্য সুন্দরী বিশ্ববন্দিতা মহারানী গায়ত্রী দেবী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারিনী। কুচবিহার রাজবংশের স্বনামখ্যাত রাজকন্যা একদিকে ঐতিহ্যশালী ১৩টি তোপ সম্মানের অধিকারী, অন্যদিকে রাজপুতনার ১৭টি তোপ সম্মানের অধিকারিনীও ছিলেন জয়পুরের (Jaipur) মহারানী। রাজ্য কুচবিহারের (Coochbehar) রাজকন্যা গায়ত্রী শুধু কুচবিহার, রাজস্থান, জয়পুরেই নয়, ভারত তথা বিশ্বে মহারানী তথা রাজমাতারূপে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি আজও সকলের মনের মনিকোঠায় বিচরণ করেন।
আধুনিক কুচবিহারের শ্রেষ্ঠ মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ (Maharaja Nripendra Narayan) এর দ্বিতীয় পুত্র মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ (Maharaja Jitendra Narayan) ও মহারানি ইন্দিরা দেবীর (Maharani Indira Devi) চতুর্থ সন্তান এবং দ্বিতীয়া কন্যা গায়ত্রী দেবীর (Gayatri Devi) জন্ম হয় ১৯১৯খ্রিস্টাব্দের ২৩শে মে সকাল ৮টায় (লন্ডনের সময়ানুসারে) ইংল্যান্ডে। গায়ত্রী দেবীর আরেক নাম আয়েষা। এই নামের পিছনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা আছে। আসন্নপ্রসবা অবস্থায় মহারানী ইন্দিরা দেবী রাইডার হ্যাগার্ড-এর (Raider Haggard) উপন্যাস পড়েছিলেন, নাম ছিল “She”. সেই উপন্যাসের নায়িকা ছিলেন আয়েষা এবং আয়েষা চরিত্রটি মহারানীর খুব ভাল লেগেছিল। তাই তাঁর সংকল্প ছিল যে কন্যা সন্তান হলে তার নাম আয়েষা রাখা হবে। গায়ত্রী দেবীর জন্মানোর পরেই মহারানী তার নাম রাখেন আয়েষা। আবার পারিবারিক রীতি অনুসারে নবজাতিকার কোষ্ঠী রচিত হয় এবং নামকরণের ক্ষেত্রে নামের আদ্যক্ষর “গ” রাখার বিধান দেওয়া হয়। তদনুসারে নাম রাখা হয় গায়ত্রী। মহারাজার ইংরেজ কর্মচারীরা পূর্বোক্ত দুটি নামিই সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। মে মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন জন্য তারা রাজকুমারীর নাম দিল “Princess May”. ২০২২ সালের এই ২৩ এ মে তে তার ১০৪ বছর জন্মবার্ষিকীতে ও কোচবিহারের রাজকুমারীর মর্যাদা চিরস্থায়ী ও চির উজ্জ্বল।














