কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় বিতর্ক তৃণমূলের অঞ্চল কমিটিগুলো নিয়ে

কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত আমবাড়ি, খাগড়াবাড়ি ,গোপালপুর ও চকচকা তে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অঞ্চল কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পরে, ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পাল্টা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, তারপরেই আজ কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতির নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিরাট বিবৃতি জারি করা হয়েছে।।

“কোচবিহার জেলার নটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে গত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ, দিনহাটা, সিতাই, শীতলকুচি, মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে আমাদের দল জয়ী হয়।। নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র 1200- ভোট এবং তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র 6500 – ভোটে আমরা পিছিয়ে থাকলেও নির্বাচন পরবর্তীতে বিজেপির ব্যাপক ভাঙ্গন এবং তৃণমূলে বিজেপি পঞ্চায়েতের যোগদান কে সামনে রেখে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই দুটো ক্ষেত্রে আমাদের জয় নিশ্চিত।আরো তাৎপর্যপূর্ণ হলো গত বিধান সভার তুলনায় এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রায় ৪৯,০০০ হাজার ভোট কমেছে ।বাকি দুটো বিধানসভা কোচবিহার উত্তর, মাথাভাঙা সেই সাথে সবগুলো শহরের সাথে সাথে বিশেষ করে কোচবিহার পুরসভা এলাকায় গত লোকসভা ভোটে জেলার সমস্ত এলাকার তুলনায় দলের ফল খারাপ হয়েছে। আগামী বিধানসভায় আমাদের লক্ষ্য কোচবিহারে নয়ে নয়। সব বিধানসভায় জিততে ওই সব এলাকায় বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। সাংগঠনিক প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে নতুন মুখ সংযোজন, কমিটি পরিবর্ধন, প্রয়োজনে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
2026-সালের বিধানসভায় সব আসনে জয়ের লক্ষই এখন পাখির চোখ। ইতিমধ্যে কোচবিহার উত্তর বিধানসভার চারটি ,মাথাভাঙায় ১ টি ,দিনহাটায় ৪ টি জেলা জুড়ে মোট ১০ টি অঞ্চল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও নূতন কমিটি করা হয়েছে।সাংগঠনিক কাজে গতি আনতে আরও কয়েকটি অঞ্চল কমিটিতেও সাংগঠনিক রদবদল হবে। রাজ্য নেতৃত্বের অনুমতি ক্রমেই সমস্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কোচবিহারে যে সিদ্ধান্ত হচ্ছে সেসব দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের নজরে রেখেই হয়েছে।ভবিষ্যতেও তাই হবে।

এই প্রসঙ্গে বলতে হয়, কোচবিহার উত্তর বিধানসভাতে গত লোকসভা নির্বাচনে দল প্রায় 19- হাজার ভোটে হারে তার মধ্যে খাগরাবাড়ি 8- হাজার, চকচকায় 5- হাজার, গোপালপুরে 3200 -ভোটে পিছিয়ে ছিলাম আমরা। তবে এই তিনটি অঞ্চলে 16 -হাজারের উপরে আমরা হেরেছি। মাথাভাঙা বিধানসভায় আমরা 10,500 ভোটে হেরেছি, তারমধ্যে মাথাভাঙা শহরের 4200 ভোট, ফুলবাড়ী অঞ্চল 3200 ভোট , পারা ডুবি 1900 ভোট ব্যবধানে আমরা পিছিয়ে। অর্থাৎ এই তিনটি জায়গা থেকেই প্রায় দশ হাজার ভোটে আমরা পিছিয়ে যাই। এছাড়াও প্রেমেরডাঙ্গা ও নিশিগঞ্জ বাজার এলাকায় বুথ গুলোতেও আমাদের ফলাফল যথেষ্টই খারাপ হয়।

কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র প্রায় আট হাজার ভোটে জিতলেও কোচবিহার শহরে প্রায় 19- হাজার ভোটে আমরা লোকসভায় পিছিয়ে। সবকিছু নজরে রেখে, পর্যালোচনা করে আগামীতে ওই সব এলাকায় দলের শক্তি বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে। সবাইকে খুশি করে সংগঠনের শ্রীবৃদ্ধি করা যাবে না। যোগ্যতমের অগ্রাধিকার সূত্র ধরেই বুথ, অঞ্চল, ব্লক স্তরে এমনকি জেলাতেও যোগ্য নেতৃত্বদের সামনে আনার প্রক্রিয়া দলের সর্বস্তরে শুরু হয়েছে। জেলা জুড়ে ইতিমধ্যেই দশটি অঞ্চলে সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে, আগামীতে আরো প্রায় কুড়িটি অঞ্চলে সাংগঠনিক পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন করা হবে।

সর্বোপরি দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সকল অনুগত কর্মীরা দলের প্রতি একনিষ্ঠতা রেখে কাজ করবেন এটাই বাস্তব।। বিচ্ছিন্নভাবে কেউ দ্বিমত পোষণ করলে সেটা অবাস্তব।

অভিজিৎ দে ভৌমিক।সভাপতি,কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটি।

প্রসঙ্গতা ,এখন এই বিষয় নিয়েই রাজনৈতিক মহলে নানান জল্পনা শুরু হয়েছে, অভিজিৎ দে ভৌমিক বানাম সজল সরকার!”

Leave a Comment