কোচবিহারে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের মধ্যে সবথেকে জমজমাট লড়াই তাই হয়তো পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরেও লাগাতার কর্মসূচি এবং জনসংযোগে নেমে পড়েছে দুই দল তৃণমূল ও বিজেপি ।। একদিকে রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক অন্যদিকে কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের নেতৃত্বে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী রূপান্তরণ ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেসের।। উল্লেখ্য পঞ্চায়েত নির্বাচনে ও
ধুপগুড়ি উপনির্বাচনের ফলাফলের পরে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে রাজনৈতিক উত্তাপ।। প্রসঙ্গত, মাথাভাঙ্গা ২ ন: ব্লক, পরিসংখ্যান তালিকায় বারবার উঠে ভেসে আসছে, এর কারণ এই ব্লকে বিজেপি দখল করেছে বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং জেলা পরিষদ আসন।। কিন্তু নির্বাচনী বিশ্লেষণ কখনোই সহজ অংকের দ্বারা হয় না।।
এবার যদি পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে লক্ষ্য করা যায় তাহলে পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত খুবই গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসছে
১) বড় শৌলমারী – এই গ্রাম পঞ্চায়েতে আসন রয়েছে ২৩ টি যার মধ্যে ১৪ টি দখল করেছে বিজেপি ও ৯ দখল করেছে তৃণমূল ।।
উল্লেখ্য: ১২ টি আসনে ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ব্যবধান ৩ টি আসনের এবং পরিসংখ্যান দেখে বোঝা যাচ্ছে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ টি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিলো ১ ভোট, ১১ ভোট , ৯ ভোট যথাক্রমে অর্থাৎ গোটা গ্রাম পঞ্চায়েত মাত্র 21 ভোটে জয় করেছে বিজেপি এবং ১১ টি ভোট যদি বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেত তাহলে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ফলাফল অন্যরকম হতো।।
২) রুুইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত-এখানে মোট আসন রয়েছে ২৩ টি, ১৩ টি বিজেপি পেয়েছে এবং ১০টি আসন তৃণমূল কংগ্রেস।।
উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো ১২টি আসনে, পরিসংখ্যান বলছে ২ টি আসনের ব্যবধানে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিলো ৪টি ভোট ও ৮টি ভোট, অর্থাৎ ১২ ভোটে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি এবং যদি ৭টি ভোট বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেত তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতো।।
৩)পাড়াডুবি গ্রাম পঞ্চায়েত : এই গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ২২। তৃণমূল দখল করেছে ১০টি এবং বিজেপি দখল করেছে ১৩ টি.
উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো ১২ আসনে।। পরিসংখ্যান বলছে দুইটি আসনের ব্যবধানে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি।। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৮ ভোট ও ১২ ভোট।। অর্থাৎ ২০ ভোটের ব্যবধানে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি এবং যদি ১১ টি ভোট বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেত তাহলে বিজেপির পরিবর্তে অন্য কেউ পেতো গ্রাম পঞ্চায়েতের চিত্র অন্যরকম হতো।
৪) লতাপাতা গ্রাম পঞ্চায়েত: এখানে মোট আসন ছিলো ২৩ টি,, যার মধ্যে বিজেপি দখল করেছে ১৩ টি এবং তৃণমূল দখল করেছে ১০টি।
উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিলো ১২ আসনের এবং এখানে ২টি আসনের ব্যবধান ছিলো তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের এবং এখানে দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিলো ২০ ভোট ও ৩৩ ভোট অর্থাৎ মোট ৫৩ ভোট এবং যদি ২৭ ভোট একদলের পরিবর্তে অন্য দলে পড়তো তাহলে চিত্র অন্যরকম হতো।।
৫) ঘোকসারডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৮ এখানে তৃণমূল পেয়েছে ৮টি আসন এবং বিজেপি পেয়েছে ১০টি আসন.
উল্লেখ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ১০টি আসনে, এবং এখানে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান ছিল দুটি আসন ।। এখানেও দুইটি আসনে তৃণমূলের পরাজয়ের ব্যবধান রয়েছে ৪ ভোট এবং ৪৩ ভোট ।। মোট ব্যবধান 47 ভোটের।। অর্থাৎ যদি ২৪ টি ভোট একদলের পরিবর্তন অন্য দল পেত তাহলে ফলাফল অন্যরকম হতো।।
***পরিসংখ্যান:
১)বড়শোলমারি: ১১ ভোট ((swing)
২) রুুইডাঙ্গা: ৭ভোট( Swing )
৩) পারাডুবি: ১১ ভোট ((swing
৪) লতাপাতা:২৭ভোট ((swing))
৫) ঘোকসাডাঙ্গা:২৪ভোট ((swing))
মোট: ৮০ টি ভোট নির্ধারণ করেছে এই পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের এইবারের ফলাফল।।
অর্থাৎ এইটা বলাই বাহুল্য যে মাথাভাঙ্গা দুই নাম্বার ব্লকে বিজেপির ভালো ফলাফল হলেও খুব স্বল্প ব্যবধান রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে, এবং আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতি আরো চরমে উঠবে, তথা ধুপগুড়ি উপনির্বাচনের ফলাফল এক অন্যরকমের সমীকরণের দিকে আভাস দিচ্ছে।। যদিও চূড়ান্ত নির্ণয় নেবে জনগণ কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে মাথাভাঙ্গা ২ নাম্বার ব্লকে রয়েছে খুবই সাময়িক ব্যবধান।।
