
কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে হতে পারে আগামী লোকসভা নির্বাচনের সব থেকে জমজমাট নির্বাচনী লড়াই।। VIP লোকসভা কেন্দ্র উত্তরবঙ্গের রাজনীতির নিরিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা আসন।। কোচবিহার কে ঘিরে একদিকে যেমন রয়েছে নানান ঐতিহাসিক ঐতিহ্য,, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের নিজস্ব নির্বাচনী ক্ষেত্র এই আসন বরাবর শিরোনামে, সঙ্গে সঙ্গে এই নির্বাচনী ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র দিনহাটা বিধানসভায় রয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ এবং দীর্ঘদিনের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক।।
কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে ৭ টি বিধানসভা : ১) কোচবিহার দক্ষিণ ২) কোচবিহার উত্তর ৩) নাটাবাড়ি ৪) দিনহাটা ৫) শীতলখুচি ৬) সিতাই ৭) মাথাভাঙ্গা।।
২০১৯ লোকসভা ভোটে জয়ী বিজেপি প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৭৩১৫৯৪ (৪৭.৯৮%) দ্বিতীয় স্থানে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৬৭৭৩৬৩ (৪৪.৪৩%) তৃতীয় স্থানে ছিলেন বাম প্রার্থী তার প্রাপ্য ভোট ছিলো ৪৬৬৪৮ (৩.০৭%) কংগ্রেস প্রার্থীর প্রাপ্য ভোট ছিল ২৮২১৫ (১.৮৫%)
অর্থাৎ বিজেপি প্রার্থী তথা তৃণমূল প্রার্থীর মধ্যে পার্থক্য ছিল মাত্র ৩.৫৫% ভোটের।।
কিন্তু ২০১৯ থেকে ২০২৪ মধ্যে তোরসা নদী দিয়ে গড়িয়েছে অনেক জল এবং নির্বাচনী পরিসংখ্যান সরল অংকের জোরে হয়না, কারন এর পেছনে থাকে নানান ফ্যাক্টর,, একদিকে যেমন রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর একটি বিশাল ফ্যান following অন্যদিকে রয়েছে নিরামিষ আহার করা, কোনোরকম নেশা থেকে বিরত থাকা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক।।
বিজেপির পক্ষে কি কি ফ্যাক্টর রয়েছে:
১) ২০১৯ এ বিজেপির একটি ও বিধানসভা দখলে ছিলোনা বর্তমানে কোচবিহার লোকসভা অন্তর্গত ৫ বিধানসভা দখলে রয়েছে বিজেপির।
২) কোচবিহার থেকে বিজেপি রয়েছে হেবি ওয়েট কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।।
৩) কোচবিহার বিমানবন্দর চালু হয়েছে।।
৪) প্রধানমন্ত্রী মোদী ফ্যাক্টর।।
৫) তৃণমূল নেতাদের অনৈক্য।।
৬) দুর্নীতি নিয়ে রয়েছে হাওয়া।।
৭) জেলার বিভিন্ন শহর অঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রভাব।।
৮) ক্রমাগত বিভিন্ন আন্দোলন সংগঠিত করা।।
৯) ২০১৯ তুলনায় গ্রামীণ স্তরে বিজেপির সংগঠন থাকা।।
১০) যুব সমাজের মধ্যে কর্মসংস্থান নিয়ে হতাশা।।
তৃণমূলের পক্ষে কি কি ফেক্টর রয়েছে:
১) কোচবিহার জেলার বিভিন্ন রাস্তাঘাট তথা পরিকাঠামগত উন্নয়ন।।
২) পঞ্চানন বিশ্ববিদ্যালয় ,ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, মেডিকেল কলেজের মতন প্রতিষ্ঠান তৈরি।।
৩)২০১৯ এর থেকে ২০২৩ এ অনেকটাই সংগঠিত তৃণমূল কংগ্রেস, পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের স্পষ্ট।।
৪) মহিলা ভোটারদের বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার মাধ্যমে সংগঠিত করা।।
৫) বিরোধীদের অন্তরকলহ বারবার প্রকাশ্যে চলে আসা, এবং তৃণমূল জেলা সভাপতির নানান কার্যক্রমের প্রভাবিত বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ।
৬) উত্তরবঙ্গে পরপর বিভিন্ন নির্বাচনে রাজবংশী সম্প্রদায়ের ভোটের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট।। বিশেষত ধুপগুড়ি উপনির্বাচনে বিজেপির তাবর তাবড় নেতারা প্রচার করেও তৃণমূলের ভালো ফলাফল।।
৭) বিরোধীদের বডিগার্ড ও বড় বড় গাড়ি প্রদর্শনের রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব ও তৃণমূল জেলা সভাপতি সরল জীবন যাপন।।
৮) বিধায়ক তহবিল তথা সংসদ তহবিলের খরচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা।।
৯) বিরোধীদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি: যেমন নারায়নী সেনা, কেন্দ্রীয় সরকারের মদতে শিল্পায়ন, বহুমুখী হিমঘর, upsc ক্যান্ডিডেটদের জন্য পড়াশোনার ব্যবস্থা রূপায়নে ব্যর্থতা।।
১০) তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা মানুষের জন্য সহজে উপলব্ধ।।
**যদিও রাজনীতিতে কোন কিছুই স্থায়ী নয় এবং দ্রুত পাল্টাতে থাকে পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট অন্যদিকে নির্বাচন যত বেশি এগিয়ে আসবে তত বেশি বদলাতে থাকবে চিত্র এবং সর্বশেষ কথা বলবে জনগণ।। কিন্তু অবশেষে জয় হবে গণতন্ত্রের।।
(খুব শীঘ্রই নানান বিধানসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তথ্যভিত্তিক চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে হাজির হচ্ছে The Rainbow)