
প্রকৃতির প্রকোপে কোচবিহারেও জলসংকট, সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানালেন কোচবিহারের পৌরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।।
রাজনগর কোচবিহার নানান কিংবদন্তি ও নানান ঐতিহাসিক ঐতিহ্যে ভরা, এই কোচবিহার শহর নিয়ে রয়েছে উত্তরবঙ্গ জুড়ে আবেগ, কত গল্প কত নাম, কত আকাঙ্ক্ষা ও রয়েছে নানান সংকল্পের কথা, এই শহর নিয়ে।। এক কথায় বলা চলে, কোচবিহার হচ্ছে উত্তরবঙ্গের সাংস্কৃতিক রাজধানী।। রাজনীতি থেকে সামাজিক নানান ক্রিয়া কলাপ, সবকিছুতেই সর্বদা শিরোনামে কোচবিহার।। দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর শুধু নয়, উত্তর পূর্বাঞ্চল, জয়পুর ও দিল্লি অবধি রয়েছে কোচবিহারের ঐতিহ্যের চর্চা।
রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সবখানেই কোচবিহারের ঐতিহ্যের দাপট রয়েছে সাবলীল।
উত্তরবঙ্গের একমাত্র স্বপ্নের শহর (পরিকল্পিত শহর) কোচবিহার বিভিন্ন নামে বিভিন্ন মানুষের কাছে পরিচিত, কেউ বলে “দিঘির শহর “কোচবিহার, আবার কারো মুখে CoB অর্থাৎ সিটি অফ বিউটি।
কোচবিহারের মহারাজাদের স্বপ্নলোক ছিলো কোচবিহার , উত্তরবঙ্গের এই একমাত্র সাজানো শহরে একসময় ছিলো বহু দীঘি, যদিও এখনো অবশিষ্ট রয়েছে বেশ কিছু দিঘী কিন্তু কালের নিয়মে অনেক দিঘী অথবা পুরনো খাল বিল এখন ইতিহাসের গর্ভে সমাধিষ্ট হয়েছে।। শিল্পায়ন নগরোন্নয়ন সঙ্গে সঙ্গে প্রোমোটারির trend যতো বেড়েছে, ঠিক তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমেছে সবুজায়ন।। ধীরে ধীরে শত শত বছরের পুরনো গাছ কোচবিহার বাসীর চোখের সামনে কাটা পড়েছে।
একসময় শোনা যেতো যে কোচবিহার এর প্রত্যেকটি বাড়ির সামনে থাকতো একটি ফুলের বাগান ও বাড়ির পেছনে থাকতো সুপারি বাগান ও
কোচবিহারে হতো লাগাতার বর্ষণ,, বন্যা ছিলো কোচবিহারের মানুষের দিনচর্চা কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে Square feet এর যুগ এসেছে,, আজ সেইসব জায়গায় তৈরি হয়েছে কংক্রিট স্তম্ভের বাগান।। হয়তো লাগাতার এই সবুজের সাম্রাজ্যের সংকোচনের জন্যই প্রকৃতির কাছে নতি স্বীকার করে আজ কোচবিহারের পৌরপ্রধান সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন :
“কোচবিহার শহরের নাগরিকবৃন্দের কাছে একটি আবেদন। এই সময়ে জলস্তর অত্যন্ত নিচে নেমে যাওয়ার কারণে একটানা দু’ঘণ্টার বেশি জল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ নিচে দীর্ঘদিন জল তুলতে তুলতে জলের যোগানটা অনেক কমে গেছে। যার কারনে ইতিমধ্যেই আমাদের জলের পাম্পের মোটর গুলো জ্বলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মধ্যে শহরের বহু মটর নষ্ট হওয়ার কারণে জল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই জল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সকাল বেলা তিন ঘন্টার পরিবর্তে দু’ঘণ্টা জল সরবরাহ করতে আমরা বাধ্য হলাম। দুপুর বেলা আমরা কিছুটা সময় বাড়িয়ে দুঘন্টা করলাম। বিকেল বেলা তখনও কিছুটা সময় বাড়িয়ে এক ঘন্টা করলাম। পাশাপাশি তর্ষার পাইপ লাইনের জল সকালে এক ঘন্টা ও বিকালে এক ঘন্টা দেওয়ার সিদ্ধান্ত পৌরসভা গ্রহণ করে জল সরবরাহ ব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে এই সিদ্ধান্ত বাধ্য হয়ে নিতে হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, কোচবিহারবাসীর যতই দাপট থাক না কেনো রাজ্যমন্ত্রী সভায় অথবা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়, কিন্তু সত্যিই কি কখনো কেউ, কোচবিহারের ধীরে ধীরে বদলাতে থাকা এই আবহাওয়ার কথা চিন্তা করেছেন!! রাজনৈতিক বাক্য বিনিময় তো প্রায়শেই শিরোনামে থাকে কোচবিহার থেকে,, কিন্তু দুই -একটা ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে একটি বাক্য ব্যয় করতে শুনেছেন কোচবিহারের এই দীর্ঘ ব্যাধি নিবারণের জন্য!!
কোচবিহারের আবহাওয়া যদি পরিবর্তন হয়ে যায়, কোচবিহারের প্রাকৃতিক চরিত্র যদি পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে কিসের কোচবিহারের আবেগ!! কিসের ঐতিহ্য!!
হ্যাঁ “জলসঙ্কট” এখন কোচবিহারের বাস্তব, তবে কি কোচবিহারের আবহাওয়া পরিবর্তন প্রধান ইস্যু হবে আগামী নির্বাচনে!!
