রাজনগর কোচবিহার বরাবর রাজনৈতিক শিরোনামে বিগত কয়েক বছর থেকে ,কিন্তু ইতিমধ্যে কোচবিহারের রাজনীতিতে এসে গেছে এক আমূল পরিবর্তন। বিপ্লব কখনো একদিনে আসে না, বৈপ্লবিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় ধীরে ধীরে, কিন্তু বিপ্লবের একটা ignition point থাকে এবং এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের ধারণা কোচবিহারের রাজনীতির সেই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হচ্ছে কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের জেলা তৃণমূলের মসনদে বসার সেই বিশেষ সময়।। এই কথা বলাই বাহুল্য দীর্ঘদিন কোচবিহারের রাজনীতিতে ছিলো এক ধরনের সন্ত্রাসের কালো মেঘের ছায়া,, রাজনৈতিক সংঘর্ষ লেগেই থাকতো , যদিও এখনো সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়নি সেই ট্রেন্ড, কিন্তু সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ক্রমেই কমে যাচ্ছে রাজনগরে,, এবং ফিরে আসছে সৌহার্দের পরিবেশ । এর জন্য যদি একদিকে ক্রেডিট দিতেই হয় তাহলে অবশ্যই জেলা প্রশাসন ও সমস্ত রাজনৈতিক দলের বিবেকপূর্ণ আচরণকে কিন্তু অবশ্যই সব থেকে বেশি কার্যকারী ভূমিকা নির্বাহ করেছে কোচবিহার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের মাটির রাজনীতি,, তার দৈনন্দিনের চর্চা হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্তির বার্তা দেওয়া ও মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে তার বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পরে জেলা রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করে বিজেপি এবং সাংসদ নির্বাচিত হন বর্তমান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক, তারপরে ২০২১ সালে বিজেপি আরো শক্তি বৃদ্ধি করে তথা বিভিন্ন অঞ্চলে বিজেপি বিধায়করা নির্বাচিত হন।। কিন্তু এই পুরো সময় কালে কোচবিহারের রাজনীতি যেনো আরো উত্তপ্ত হতে থাকে একদিকে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ও আরেক দিকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি।। দুই ক্ষমতাসিনের এই যুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে, একে অন্যের উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ কর্মের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বলে দুই ক্ষমতাসীন একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর অভিযোগ করতে থাকে।। অন্যদিকে দুই দলের কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন সংঘর্ষে জড়িয়ে কখনো বাড়ি ছাড়া কখনো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন কখনো নানান মামলায় জর্জরিত হয়ে আদালতের চক্কর কাটতে থাকে।। সেই সময় কোচবিহারের রাজনীতির ধারা হয়ে গিয়েছিলো একে অপরের বিরুদ্ধে অপশব্দ ব্যবহার করা, কার মধ্যে কতটা বাহুবল রয়েছে সেই প্রদর্শন করা , কে কাকে কত বড় হুঁশিয়ারি দিতে পারে, কে কতগুলো গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারে, কার কতগুলো সুরক্ষা বাহিনী রয়েছে, প্রতিস্পর্ধা চলছিলো এইসবের,, হঠাৎ করে কোচবিহারের রাজনৈতিক নেতাদের আশেপাশে কালো সাফারি পড়া সুরক্ষা কর্মীদের দেখা যেতে লাগলো,, রাজনৈতিক নেতারা যেনো মানুষের থেকে, দূরে আরো দূরে হয়ে যেতে লাগলো।।
সমাজ বদলানোর কথা, মানুষের ব্যথা শোনার মনোযোগ, অর্থনীতি সমাজনীতি লোকনীতি নিয়ে চর্চা ক্রমেই রাজনীতির ব্যাক সিটে চলে যাচ্ছিলো,, তার বদলে জায়গা করে নিচ্ছিলো রাজনৈতিক আড়ম্ভর।। যদিও এই সবের মধ্যেও শাসকদলের নেতারা যখন সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের টাকা নিয়ে প্রশ্ন করছিলো তখন পাল্টা শাসক দলের বিরুদ্ধেই অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে বিরোধী দলের থেকে।। অন্যদিকে শাসক দলের বিরুদ্ধে যখন সন্ত্রাসের অভিযোগ আণে বিরোধীরা, তখন শাসক দলের থেকে বাহুবলি ও কনভয়ের রাজনীতির অভিযোগ আনা হচ্ছিলো।। এই অদ্ভুত রাজনৈতিক ব্যাকরণ এর মাধ্যমে চলছিল কোচবিহারের রাজনীতি।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে অভিজিৎ দে ভৌমিকের জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকেই , তিনি জেলার প্রান্তে প্রান্তে ঘুরে শান্তির বার্তা দেওয়া শুরু করলেন, যদিও ঘনিয়ে এসেছে পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোট কিন্তু বহুদিন এই ধরনের শান্তির বার্তা কোচবিহারের মানুষ শুনেনি,, কোচবিহারের মানুষ আরো বেশি অবাক হলো যখন শাসক দলের জেলা সভাপতি কে তারা দেখলেন মাঠে ময়দানে বসে মানুষের পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করতে,, ধীরে ধীরে অপশব্দ যেনো হারিয়ে যেতে লাগলো কোচবিহারের রাজনীতির থেকে,, ঠিক সমসাময়িকভাবে উল্টো দিক থেকেও সমান ভাবে রেসপন্স দেখা যেতে লাগলো,, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক কে দেখা গেলো এক দরিদ্র পরিবারের মেয়েকে বিয়ে দিতে,, আবার কখনো তাকে দেখা গেলো কোনো দুস্থ পরিবারের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষকে আর্থিক সাহায্য করতে।। অন্যদিকে ইতিমধ্যে চাকরি-হারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আইনি সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন কোচবিহার তৃণমূল জেলা সভাপতি কখনো আবার তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য হচ্ছেন তৎপর।। এই ভাবেই ধীরে ধীরে মোড় ঘুরতে শুরু করেছে কোচবিহারের রাজনীতিতে, সবার অগোচরে ধীরে ধীরে নিজের শিকড় মজবুত করছে সমাজবাদ, মানবাতাবাদ।। কিন্তু এখনো অনেকটা দূর পথ বাকি আসন্ন দুইটি নির্বাচন নির্ধারণ করবে এই রসায়নের পরিণতি। কিন্তু শুরুটা অবশ্যই ভালো কারণ এখন অভিজিৎ দে ভৌমিকের মতনই কর্মীদের সঙ্গে মাঠে বসে খেতে দেখা যাচ্ছে সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের।
