কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের দুই উজ্জ্বল যুব তারকার দাপটে ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে তৃণমূল কংগ্রেস,পঞ্চায়েতের আগে গ্রামে গ্রামে তৃণমূলের হাওয়া, বিরোধীরা অদৃশ্য ও কোণঠাসা।।

কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের দুই উজ্জ্বল যুব তারকার দাপটে ক্রমেই শক্তি অর্জন করছে তৃণমূল কংগ্রেস,পঞ্চায়েতের আগে গ্রামে গ্রামে তৃণমূলের হাওয়া, বিরোধীরা অদৃশ্য ও কোণঠাসা।।

যদিও দেশের বেশিরভাগ পঞ্চায়েত নির্বাচনগুলোতে সরকারের পক্ষে হাওয়া থাকে, কিন্তু বর্তমানে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন গ্রামে সাংগঠনিকভাবে গত কয়েক বছরের থেকে অনেকটাই মজবুত হয়েছে তৃণমূল,, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা হামেশাই শোনা যাচ্ছে গ্রামীণ আড্ডা ও চর্চা গুলোতে।। অন্যদিকে রাজ্য জুড়ে যখন বিভিন্ন দুর্নীতির এত চর্চা , বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সেইসব তথ্য নিয়ে চলছে আলোচনা তখন অদ্ভুতভাবে গ্রামীন আড্ডা গুলোতে সেইসব দুর্নীতির চর্চা আংশিকভাবে থাকলেও রাজ্য সরকারি প্রকল্প গুলোর কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল এবং এর সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে তেমন করে আর সোচ্চার হতে দেখা যাচ্ছে না, যদিও দোরগোড়ায় চলে এসেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। নারায়নী সেনা থেকে নিয়ে রাজ্য বিভাজন , এরপরে বিজেপি বিধায়কদের যে কারণেই হোক নিজের এলাকায় কাজ না করতে পারাকে এইবার প্রধান নির্বাচনী ইস্যু বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল , সবকিছুতেই অদ্ভুত ভাবে ব্যাক ফুটে বিরোধীরা, এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বিরোধী নেতার কথায়, তাদের নির্বাচনী বৈতরণী পার করার ভরসা হচ্ছে তৃণমূলের অন্তরঘাত তথা সন্ত্রাসের আশঙ্কা।

প্রসঙ্গত, কোচবিহার জেলা মানে একসময় ছিলো তৃণমূলের অন্দরের তুমুল গোষ্ঠী কোন্দল। প্রতিনিয়ত ঘাত প্রতিঘাত এবং এইসবে পাল্টে গিয়েছিলো কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক চরিত্র।। কোচবিহারে তৃণমূলের মাদার বনাম যুবর দ্বৈরথ হার মানিয়ে দিয়েছিলো টলিউডের চিত্রনাট্যকেও ।। এইসব বিবাদের সুযোগ নিয়েই সেই সময় শক্তি সঞ্চয় করেছিলো বিরোধী শিবির,, নিচু তালাতেও সংগঠন মজবুত করতে সক্ষম হয়েছিলো বিজেপি।। এই কথা বলাই বাহুল্য বর্তমানে কোচবিহার জেলার বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের তৃণমূল থেকে বহিষ্কার এবং রাজনৈতিক উত্থানের পটভূমি তৈরি করে দিয়েছিলো তৃণমূলের সেই সময়ের তুমুল গোষ্ঠী কোন্দল।
উল্লেখ্য, সেইসবের অবসান ঘটতে না ঘটতেই তৃণমূলের মধ্যে ফের শুরু হয়ে যায় “কাকা- ভাস্তা বিবাদ”  এবং বিশ্লেষক মহলের ধারণা , সেই সময়ে বিভিন্ন নির্বাচনে তৃণমূলের একের পর এক খারাপ ফলের নেপথ্যে ছিলো এই বিবাদের জেরে অন্তরঘাত যার ফলস্বরূপ বারবার বদল হয়েছিলো তৃণমূল জেলা সভাপতি, যা সৃষ্টি করেছিলো তৃণমূলের নিচু তলার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধোঁয়াশা, সেই ধোঁয়াশার অবসান যেনো কোন ভাবেই, ঘটাতে পারছিলেন না তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব।। কারণ কোথাও না কোথাও বর্ষিয়ান অভিজ্ঞতা বনাম নতুন উদ্যোমের  মধ্যে চলছিলো সংগ্রাম।

কিন্তু ধীরে ধীরে কালের নিয়মে যখন তৃণমূলের বর্ষিয়ান নেতাদের থেকে যুব নেতাদের হাত শক্ত হতে শুরু করে, তখনই লক্ষ্য করা যায় কোচবিহার তৃণমূলের মধ্যে এক অদ্ভুত পরিবর্তন একদিকে ক্রমাগত জনমুখী কার্যক্রম করে দলীয় নিচু তলায় তৃণমূলের ভাবমূর্তি বদলে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছেন nbstc চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায়। রাজবংশী ভোট ব্যাংককে তৃণমূলের পক্ষে টানতে তিনি লাগাতার কাজ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে , কোচবিহার তৃণমূলের জেলা সভাপতি হিসেবে অভিজিৎ দে ভৌমিকের  নাম ঘোষণা হওয়ার পরে থেকেই যেনো ম্যাজিকের মতন তৃণমূলের বহু পুরাতন সাংগঠনিক সমস্যার অবসান ঘটে গিয়েছে। এই যাবৎ কাল অবধি তৃণমূল কংগ্রেস কোচবিহার জেলায় যে সমীকরণের অভাবে ভুগছিলো সেই সমন্বয় স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন তৃণমূলের বর্তমান জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক। সাংগঠনিকভাবে কোচবিহার জেলার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে তৃণমূল কংগ্রেস এখন অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ, কিছু কিছু জায়গায় অন্তরঘাতের সম্ভাবনা থাকলেও, অন্তর ঘাত করার মতন শক্তি খুব কম সংখ্যকের কাছেই রয়েছে, এবং এইসব অন্তর্গাতের প্রভাব তেমনটা থাকবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।। সর্বশেষে এই কথা বলাই যেতে পারে, কোচবিহার জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস আগের থেকে অনেক বেশি পরিণত এবং সচেতন।। এখন এটাই দেখার বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি এই ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেসকে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের টক্কর দিতে কোন রণণীতি অবলম্বন করে!

Leave a Comment