কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক মন্তব্যে ক্ষোভের সুর, সময়ের চাকা ফের ঘুরছে!

কোচবিহারে ক্রমেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অন্দরের ক্ষোভ য়েনো ফুটে বেরোচ্ছে, একদিকে ইদানিংকালের তৃণমূল কংগ্রেসে যেমন দেখা যাচ্ছে দলের অন্দরে ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে যুব সমাজের তথা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতৃত্তের,যারা দলকে সাংগঠনিকভাবে আগামী দিনেও মজবুত রাখবে, এবং আগামী সংগ্রাম গুলোতে নবীন উদ্যমে দলকে শক্তি যোগাবে। অন্য দিক থেকে যারা অভিজ্ঞতায় বেশি যারা জন্মলগ্ন থেকেই নানা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এই দলটি করে এসেছেন, তাদেরও নিজের রক্ত ও ঘাম দিয়ে লালন করা এই দলের প্রতি অনেক আকাঙ্ক্ষা, সব মিলিয়ে এ যেন দিলীপ কুমারের পঞ্চাশের দশকের সেই  বিখ্যাত সিনেমা ” নয়া দৌড়ের” চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি।

“ দলের সর্বচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন আমাকে চেয়ারম্যান এবং পার্থ প্রতিম রায়কে জেলা সভাপতি ঘোষণা করেছিলেন, সেদিন সকলকে নিয়ে দল পরিচালনা করার কথা নেত্রী বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু পার্থ সেটা করছেন না। জেলায় একাই প্রোগাম করে বেড়াচ্ছেন। কিনবা প্রোগ্রাম ঠিক করার পর কাউকে না কাউকে দিয়ে খবর পাঠাচ্ছেন। কোন প্রোগ্রাম ঠিক করার আগে আলোচনা পর্যন্ত করছেন না। এই স্বৈরাচারী মনোভাবের জন্য আমি মর্মাহত, তাই আমি মনে করছি যদি জেলা সভাপতি পার্থ প্রতিম রায় আমাকে যোগ্য সম্মান না দেন, তাহলে আর তাঁর কোন প্রোগ্রামে যাবো না।”

দলের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মনের এমন বক্তব্য নিয়ে কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রীতিমতো ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে, যদিও এখনো পর্যন্ত তৃণমূল জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের কোনো বক্তব্য এই বিষয়ে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত,সম্প্রতি রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি স্বাক্ষরিত কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পর পর দুটি কোর কমিটির তালিকা প্রকাশ হয় সামাজিক মাধ্যমে। প্রথম তালিকা ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাক্ষরিত। ওই সময় দলের জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ। কিন্তু তাঁকে বাদ দিয়েই প্রথম কোর কমিটির কনভেনার করা হয় পার্থ প্রতিম রায়কে। ওই কোর কমিটির তালিকা নিয়ে জেলা জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূল সাধারণ কর্মী সমর্থকদের একটা বড় অংশ প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে শুরু করেন। এরপর তড়িঘড়ি আরও একটি কোর কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় কোন নামের পরিবর্তন না হলেও তারিখের জায়গায় ২৮ মার্চ লিখে সংশোধন করা হয়। কিন্তু তারপরেও তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল প্রকাশ্যেই অব্যাহত রয়েছে। ওই তারিখের আগেই জেলা সভাপতি বদল করে পার্থ প্রতিম রায়কে করা হয়েছিল। তাই এই সংশোধনে বিতর্ক নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে দলীয় নেতৃত্ব মনে করেছিলেন।কিন্তু বিতর্ক নিয়ন্ত্রণে আসা তো দুরের কথা উল্টে কোচবিহারে তৃণমূল কার্যত আড়াআড়ি ভাবে দুভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে।পাশাপাশি কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে এবার দলের জেলা কোর কমিটির ১১ জন সদস্যের মধ্যে রাখা হয় নি। এই নিয়েও জেলার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের একটা বড় অংশ রীতিমত ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং গিরীন বাবুর মধ্যে একটি বৈঠকও হয়। ওই বৈঠকে রবি অনুগামী হিসেবে পরিচিত আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি পরিমল বর্মণ, জেলা কিষান ক্ষেত মজুর সংগঠনের সভাপতি খোকন মিয়াঁ সহ বেশ কয়েকজন নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সেদিনও বৈঠক শেষে কোর কমিটি নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা যায় গিরিন বাবুকে।


Leave a Comment